
প্রতিবেদন
স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল আর্জেন্টিনার জন্য একসঙ্গে দুই ধরনের হতাশার স্মৃতি হয়ে থাকবে। একদিকে শিরোপা হাতছাড়া, অন্যদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দেশের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে আলবিসেলেস্তেরা।
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই নির্ধারিত সময়জুড়ে ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর কঠোর ট্যাকল করেন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড দেখা এনজোকে দ্বিতীয় হলুদ দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ফলে লাল কার্ড দেখে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে ভুল করেনি স্পেন। আক্রমণে উঠে এসে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোল করেন। তার সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয়।
এনজো ফার্নান্দেজের এই লাল কার্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে মোট লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনটিতে, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।
এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনসন এবং গুস্তাভো দেসোত্তি লাল কার্ড দেখেছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পর এনজোর বহিষ্কারে সেই রেকর্ড আরও ভারী হলো।
ফাইনালের ফল এবং এই নতুন পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার জন্য নিঃসন্দেহে একটি তিক্ত স্মৃতি হয়ে থাকবে। অন্যদিকে শৃঙ্খলাপূর্ণ পারফরম্যান্স ও অতিরিক্ত সময়ের গোলের সুবাদে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করেছে স্পেন।