
কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক: মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি দল
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক কণ্ঠ প্রতিদিন
কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও চিকিৎসায় ত্রুটির অভিযোগ সামনে আসার পর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল হাসপাতালে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের অপারেশন থিয়েটার, বিভিন্ন বিভাগ এবং যেখানে মৃত শিক্ষক আবু হানিফ চিকিৎসাধীন ছিলেন সেই ওয়ার্ড ঘুরে দেখান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তদন্তকারীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহাবুবা আক্তারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ডা. ইমরান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডা. নাদিম।
পরিদর্শন শেষে ডা. মাহাবুবা আক্তার জানান, অপারেশন-সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে নিহত আবু হানিফের পরিবারের দাবি, গত ২৫ জুলাই পাইলসের চিকিৎসার জন্য তিনি প্রথমে কদমতলীর ইবনে সিনা হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু খায়েরের পরামর্শ নেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের নির্দেশে ২৭ জুলাই বিকেলে তাকে ঝিলমিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতের দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও কিছুক্ষণ পরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
স্বজনদের ভাষ্য, অপারেশন শেষে প্রধান চিকিৎসক হাসপাতাল ত্যাগ করার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা একাধিক স্যালাইন, ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করেন। এরপর রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হলে ঘটনাটি আড়াল করার উদ্দেশ্যে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে তাদের অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে ঝিলমিল হাসপাতালের ম্যানেজার নারায়ণ সরকার বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর রাত ১টা ১৮ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।
অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবু খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অপারেশন যথাযথভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং রোগীকে সুস্থ অবস্থায় বেডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তার মতে, পরবর্তী সময়ে রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, নিহত আবু হানিফ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপাশা কাশিমপুর গ্রামে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হরি চাঁদ জানান, পরিবারের আবেদনের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবার মামলা বা লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।