
শিরোনাম
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালাতে আগ্রহী চীন, যাত্রায় আসতে পারে নতুন যুগ
উপশিরোনাম
উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ; সম্ভাব্যতা যাচাই ও সরকারি অনুমোদনের পরই এগোবে প্রকল্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা
বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে উচ্চগতির বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, এই রুটে বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে দ্রুতগতির ট্রেন চালুর সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে। এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের উচ্চপর্যায়ের সফর এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল চীনের বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালু হলে রাজধানী থেকে বন্দরনগরীতে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে যাত্রীসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, অর্থায়নের কাঠামো নির্ধারণ, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।