
ইমনকে ধরতে ৯ দলের যৌথ অভিযান, গ্রেফতারের পর পরিচয় গোপনের চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক কণ্ঠ প্রতিদিন
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ডেভিড ইমন নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেফতারে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৯টি দল। গ্রেফতারের পর নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন তিনি। প্রথমে পুলিশের কাছে নিজের নাম “মিরাজ” এবং বাড়ি “ঢাকায়” বলে দাবি করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা বলে স্বীকার করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারের পর ঘটনাস্থলেই তার পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আরও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন। ওই জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তিন সহযোগীসহ ইমনকে আটক করা হয়। যশোর-নড়াইল মহাসড়কে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে দেশে প্রবেশের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুরোধে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানার সদস্যদের সমন্বয়ে মোট ৯টি টিম এ অভিযানে অংশ নেয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর-নড়াইল সড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সদর দপ্তর সংলগ্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ইমন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারের পর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, এ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ, তার চলাফেরা এবং সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।