
ভারতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: অবস্থান স্পষ্ট করল মোদি সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক কণ্ঠ প্রতিদিন
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধও দেশটির প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ দিকে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। এর পর বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, তিনি দেশে ফিরলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
এদিকে, ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রকাশিত ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের জন্য একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে ভারতকে মানবিক ও দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশও করা হয়েছে। কমিটির মতে, দীর্ঘদিনের ভিসা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর পানিপ্রবাহের পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মতামত বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যৎ চুক্তির বিষয়ে সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থান, প্রত্যর্পণ ইস্যু, ভিসা কার্যক্রম এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি—সব মিলিয়ে আগামী সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।