
শিরোনাম
১৯ লাখ অনুসারীর কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, থানার বদলে দলীয় কার্যালয়ে সালিস ঘিরে তীব্র বিতর্ক
উপশিরোনাম
নেত্রকোনায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ; জরিমানা ও এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্তের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি ঘিরে থানায় মামলা না করে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও তৈরির কথা বলে কিশোরীকে বিরক্ত করতেন। সামাজিক লজ্জার কারণে প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও পরে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে সালিসের আয়োজন করা হয়।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই সালিসে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং তাকে এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এরই মধ্যে সালিসের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন এবং স্থানীয় এক নেতার পায়ে ধরে অনুতাপ প্রকাশ করছেন। এসব ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই বলেছেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার কোনো গ্রাম্য সালিস বা দলীয় কার্যালয়ে হতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এদিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারকে অভিযোগ দায়েরের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং সালিসে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন। তার ফেসবুক পেজে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে। তবে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে