
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর স্থানীয়দের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং শিক্ষা সহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনা খরচে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভালো ফল করা ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে।
এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও সহজ হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। কিশোরগঞ্জে এ কর্মসূচির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশের নদী, খাল ও জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যেও পোনা বিতরণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়লে এর সুফল সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষ পাবেন। পাশাপাশি খাল খননের ফলে কৃষিতে পানির সুবিধা বাড়ার সঙ্গে মাছ চাষের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
এ সময় তিনি দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন এবং জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সহায়তা ও সম্মানী বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।