
প্রধান শিরোনাম:
রুশ তেল কেনায় ভারতের ওপর ১০০% শুল্কের শঙ্কা, ওয়াশিংটনকে সতর্ক দিল্লির
উপশিরোনাম:
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া-সংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাস; ভারত বলছে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে তারা
সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
মূল সংবাদ প্রতিবেদন:
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিকে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রুশ তেল ও গ্যাস ক্রয় অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদন পায়। এর আগে বিলটি মার্কিন সিনেটেও পাস হয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হতে পারে।
বিলটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভারত ও চীনসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলো এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জনগণের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি অব্যাহত রাখবে এবং পরিস্থিতি ও বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় এ বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে।
নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির সরকার বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানিয়েছে।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় নতুন মার্কিন উদ্যোগটি নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুল্ক আরোপের বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে; বিলটি কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন