
১. প্রধান শিরোনাম
অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ডেকে নেওয়া, গ্রেপ্তার ৩
২. উপশিরোনাম
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হত্যায় পুলিশের তদন্তে পরিকল্পিত হামলার তথ্য, আরও একজনকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ
৩. সংক্ষিপ্ত সারাংশ
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৪. মূল সংবাদ প্রতিবেদন
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে হেফাজতে রেখে তার ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে শেষবার কার সঙ্গে যেতে দেখা গিয়েছিল, তা জানতে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে আসে। ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছ থেকে আরও কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তুহিন মোবাইল ফোনে অপ্রতিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে তাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গলে নেওয়া হয়।
সেখানে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার ওপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, হামলার একপর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে আইফোনটি নিয়ে চলে যায় তারা।
তদন্তের পর তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছের পাহাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনাটির আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন